![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব নিয়ে নিজের ফুটবল দর্শন, লক্ষ্য ও খেলোয়াড়দের মানসিকতা পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন প্রধান কোচ টমাস ডুলি। আজ শুক্রবার ঢাকায় রাজধানীর এক পাঁচ তারকা হোটেলে কুল-বিএসপিএ পুরস্কারের মঞ্চে কোচকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
মঞ্চে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে ডুলি বলেন, ‘আমি মালয়েশিয়া বা ফিলিপাইনে যখন কাজ করেছি, তখন সেখানকার অনেক মানুষের সাথে আমার দেখা হয়েছে এবং তারা সবাই ফুটবল দ্বারা চালিত এবং ফুটবল ভালোবাসে। এখানে প্রচুর প্যাশন রয়েছে এবং আমি বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছুটা জানতাম। তাই প্রধান কোচের এই পদটি যখন খালি হলো, আমি আবেদন করলাম এবং ভাবলাম এখানে কাজ করতে পারলে দারুণ হবে।’
দর্শকদের প্রত্যাশার চাপ ও সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি এটার জন্য প্রস্তুত। আমি জার্মানি থেকে এসেছি এবং জার্মানিতেও একই অবস্থা। বাংলাদেশে আমাদের হয়তো ১০ লাখ কোচ আছেন। তারা সবাই ফুটবল বোঝেন এবং এটি ভালো। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমি সবসময় আমার খেলোয়াড়দের এবং ফেডারেশনকেও বলি যে, লক্ষ্য যদি বাস্তবসম্মত হয় তবে আমরা যেকোনো কিছু অর্জন করতে পারি। আমরা গত ২৩ বছরে কিছু জিতিনি; এখন সময় এসেছে তা করার।’
মাঠের কৌশল ও খেলার ধরন নিয়ে ডুলি তার বক্তব্যে বলেন, ‘বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হলো দলটিকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যাওয়া যেখানে তারা সুন্দর ফুটবল খেলে আরও আকর্ষণ অর্জন করবে। আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি, ফুটবলের পেছনে দৌড়াতে পছন্দ করি না। আমি আমার খেলোয়াড়দেরও এটাই বলি। বল তাড়া করা আমি পছন্দ করি না। এতে কোনো কারণ ছাড়াই দৌড়াতে হয়, বল ফেরত পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, অথচ বেশিরভাগ সময় বল ফেরত পাওয়া যায় না। আমি ফুটবল খেলতে পছন্দ করি।’
খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করতে চাই কারণ এর জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। এখানে উপস্থিত সকল চ্যাম্পিয়নরা এর জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। আমাদের খেলোয়াড়দের উচিত তাদের সাথে কথা বলা যে, এই স্তরে পৌঁছানোর জন্য তারা জীবনে কী কী ত্যাগ স্বীকার করেছেন। পুরস্কার পাওয়ার আগে যে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়—এই বিষয়টিই আমাদের খেলোয়াড়দের মাথায় ঢোকাতে হবে। আপনি যদি কিছু অর্জন করতে চান, তবে আপনার জীবন থেকে কিছু জিনিস ত্যাগ করতে হবে। আর যারা এটি করতে প্রস্তুত, আমরা তা অর্জন করতে পারব।’
ফিফা র্যাঙ্কিং নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ডুলি বলেন, ‘আমার লক্ষ্য হলো র্যাঙ্কিং ১৬০ বা ১৫০-এর মধ্যে নিয়ে আসা। এটি রাতারাতি ঘটবে না। এটি একটি প্রক্রিয়া। আমি এই বিষয়ে একটি বইও লিখেছি—‘দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট সাকসেস ইন সকার দ্যাট নো ওয়ান টিচেস।’
সেখানে চারটি স্তম্ভ রয়েছে এবং যার একটি হলো মানসিকতা। মানসিকতা পরিবর্তন করা যাবে না, এটি আপনার চিন্তাভাবনার ধরন। আমাদের ফুটবল নিয়ে চিন্তা করতে হবে এবং আমাদের কী করা দরকার তা বুঝতে হবে, তাহলেই আমরা যেকোনো কিছু অর্জন করতে পারব। লক্ষ্য বাস্তবসম্মত হতে হবে। আগামীকালের মধ্যে না হলেও, হয়তো এক বছরের মধ্যে ১৬০-এর নিচে আসা বাস্তবসম্মত।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশি সমর্থকদের ফলোয়ার নিয়ে রসিকতা করে ডুলি বলেন, ‘হ্যাঁ, সচেতন থাকুন, আমি জানি। বাংলাদেশ থেকে ইতোমধ্যে আমার ১০ লাখ বন্ধু হয়ে গেছে।’